কম্পিউটার কি / কম্পিউটার কাকে বলে [বিস্তারিত] ২০২০

আমারা সবাই কম্পিউটার সম্পর্কে একটু আকটু জানিই,না জানা কিন্তু কেউই না,অথচ আমরা অনেকেই জানিনা কম্পিউটার কি অথবা কম্পিউটার কাকে বলে। বর্তমানে কম্পিউটার হয়ে উঠেছে তিন বেলা খাবারের মত,চলার পথের রাস্তাকে সহজ করতে এবং অনেক জটিল কাজ গুলোকে সমাধান করতে এখন পর্যন্ত কম্পিউটারের বিকল্প বের হয়নি। তবে হ্যা সিঙ্গেল মানেই যেমন জীবন বৃথা না তেমনি শুধু কম্পিউটার থাকলেই সব হবেনা। আমাদের উপযোগী মানুষ হতে হবে তবেই আমরা স্বার্থকতা লাভ করবো। কম্পিউটার আমাদের প্রতিদিনের কাজ গুলোকে সহজ করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরণের গবেষণা সহ নানা কাজে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। আসুন আরো বিস্তারিত যানা যাক আসলে কম্পিউটার কি……

কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে?

কম্পিউটার (Computer) শব্দটি গ্রিক শব্দ কম্পিউট” (compute) থেকে এসেছে।  কম্পিউটার হল এমন একটি যন্ত্র যা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসরণ করে গাণিতিক গণনা সংক্রান্ত কাজ খুব দ্রুত করতে পারে।  Compute শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। আর কম্পিউটার (Computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। কিন্তু কম্পিউটার এখন আর শুধু গনণা করা যন্ত্র নয়,হাজার হাজার গবেষণার মুল হাতিয়ার,বিশেষ করে বিজ্ঞানি দের বর্তমানে মুল হাতিয়ার। তবে কম্পিউটার কিন্তু প্রথম থেকেই এত আধুনিক ছিলনা,ধীরে ধীরে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার ও হয়ে উঠেছে আধুনিক,তবে অনেকেই বলেন কম্পিউটার আধুনিক হচ্ছে বলেই আমরা খুব দ্রুত আধুনিক হচ্ছি। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে। আশা করি কম্পিউটার কি এর সংজ্ঞা বুঝতে পেরেছেন।

কম্পিউটারের ইতিহাস

কম্পিউটার কী এটা জানাও যেমন জরুরী তেমনি এর ইতিহাস জানাটাও অনেক জরুরী। ১৬১৬ সালে স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে ছাপা বা দাগ কাটাকাটি অথবা দন্ড ব্যবহার করেন। এসব দন্ড জন নেপিয়ার (John Napier) এর অস্থি নামে পরিচিত। ১৬৪২ সালে ১৯ বছর বয়স্ক ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল সর্বপ্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। তিনি দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ারের সাহায্যে যোগ বিয়োগ করার পদ্ধতি চালু করেন। ১৬৭১ সালের জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবনিজ প্যাসকেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে চাকা ও দন্ড ব্যবহার করে গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন আরো উন্নত যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। তিনি যন্ত্রটির নাম দেন রিকোনিং যন্ত্র (Rechoning Mechine)। পরে ১৮২০ সালে টমাস ডি কোমার রিকোনিং যন্ত্রের পরিমার্জন করে লিবনিজের যন্ত্রকে জনপ্রিয় করে তোলেন।  ও হ্যা ভুলেই গেছিলাম আসল কথা বলতে,আমার মাথাটাও বোধয় কম্পিউটার করা লাগবে তাহলে আর ভুল হবেনা,তবে আর বেশি দেরি নেই মানুষের মস্তিস্কের সাথে চিপ সেট বসাতে,তখন মানুষ কম্পিউটারের মতই হয়ে যাবে। যাইহোক, প্রাগৈতিহাসিক যুগে গণনার যন্ত্র উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে কম্পিউটার ইতিহাস হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন কালে মানুষ একসময় সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। পরবর্তীতে গণনার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করে থাকলেও অ্যাবাকাস (Abacus) নামক একটি প্রাচীন গণনা যন্ত্রকেই কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়।[২] এটি আবিষ্কৃত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ সালে ব্যাবিলনে। অ্যাবাকাস ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গননা করার যন্ত্র। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০/৫০০ অব্দে মিশরে বা চীনে গননা যন্ত্র হিসেবে অ্যাবাকাস তৈরি হয়।

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

আমরা বিস্তারিত না যেয়ে শুধুমাত্র বেসিক প্রকারভভেদ গুলা তুলে ধরবো। মুলত কম্পিউটার ৩ প্রকার,আবার এই ৩ প্রকার কে অনেক ভাগে ভাগ করা হয়েছে,আমরা এত বিস্তারিত না যেয়ে শুধু ৩ টা প্রকারভেদ দেখবো

  • অ্যানালগ কম্পিউটার
  • ডিজিটাল কম্পিউটার
  • হাইব্রিড কম্পিউটার

অ্যানালগ কম্পিউটার

যে কম্পিউটার একটি রাশিকে অপর একটি রাশির সাপেক্ষে পরিমাপ করতে পারে,তাই এনালগ কম্পিউটার। এটি উষ্ণতা বা অন্যান্য পরিমাপ যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয় তা রেকর্ড করতে পারে।মোটর গাড়ির বেগ নির্ণায়ক যন্ত্র এনালগ কম্পিউটারের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটা মুলত আবহাওয়ার মত কাজ করে,আবহাওয়া যেমন রুপ পরিবর্ত্ন করতে পারে তেমনি এই কম্পিউটার যে কোনো চেঞ্জ হয়ে যাওয়া জিনিস কে ধরতে পারে। 

ডিজিটাল কম্পিউটার

বর্তমানের সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার। ডিজিটাল কম্পিউটার দুই ধরনের বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ দ্বারা সকল কিছু প্রকাশ করা হয়। ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ১ এবং অনুপস্থিতিকে ০ দ্বারা প্রকাশ করা হয় এটি যে কোন গণিতের যোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে এবং বিয়োগ,গুণ ও ভাগের মতো অন্যান্য অপারেশন সম্পাদন করে। এই কম্পিউটার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে পৃথিবিতে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার,এটির মুল্য অনুযায়ী অনেক কাজের জিনিস,সাধারন মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো এই কম্পিউটার।

হাইব্রিড কম্পিউটার

 ডিজিটাল কম্পিউটার এবং অ্যানালগ কম্পিউটারের মিশ্রণে যে কম্পিউটার তৈরি হয় তাকেই হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। এই কম্পিউটার বিজ্ঞানিদের কাছে,বিভিন্ন গবেষণাগারে,অনেক বড় বড় হসপিটালে ইত্যাদি। তবে গবেষণার কাজের জন্য এই কম্পিউটার একদম বেস্ট।

অপারেটিং সিস্টেম

কম্পিউটার কি?

আমাদের শরীর পরিচালনা করার জন্য যেমন মস্তিস্ক আছে তেমনি প্রতিটা কম্পিউটার চালানোর জন্য একটা প্রোগ্রাম লাগে আর সেই প্রোগ্রাম কেই অপারেটিং সিস্টেম বলে। কম্পিউটারের সব হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার কে পরিচালনা করার জন্য যে সিস্টেম ব্যাবহার করা হয় তাকেই অপারেটিং সিস্টেম বলে। এখন পর্যন্ত সবেচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কিছু অপারেটিং সিস্টেমের নাম দেও্যা হলোঃ 

  • ডস
  • উইন্ডোজ ৯৫
  • উইন্ডোজ ৯৮
  • উইন্ডোজ ২০০০
  • ইউনিক্স, উবুন্টু
  • মিন্ট (অপারেটিং সিস্টেম)
  • ডেবিয়ান
  • ফেডোরা
  • ম্যাক ওএসএক্স
  • উইন্ডোজ এক্সপি
  • উইন্ডোজ ভিস্তা
  • উইন্ডোজ ৭
  • উইন্ডোজ ৮
  • উইন্ডোজ ৮.১
  • উইন্ডোজ ১০
  • লিনাক্স

কম্পিউটারের বাহ্যিক জিনিসপত্র

প্রতিটা কম্পিউটারেই এই জিনিসগুলো থাকবে,এগুলা জিনিস বলে আমি ভুল করছি,এগুলোর নাম হচ্ছে হার্ডওয়ার,আপনাদের বুঝাবোর স্বার্থে সহজ করে বলছি। এই হার্ডওয়ার প্রতিটা কম্পিউটারে লাগবেই।

১ঃ মাউস

২ঃ কি-বোর্ড

৩ঃ মনিটর ইত্যাদি

এগুলো লাগবেই। এছাড়াও আনুসাঙ্গিক যেগুলো লাগে ওগুলা প্রথম অবস্থায় না নিলেও হবে।

সফটওয়ার

সব ঠিকঠাক হলে আপনাকে কিছু সফটওয়ার সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে,কিছু সফটওয়ার আপনি কম্পিউটারে উইন্ডোস দেওয়ার সময় পাবেন আর কিছু পরে আপনি ইচ্ছা করলে ইন্সটল করতে পারবেন,উইন্ডোস দেওয়া মানে আপনি অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারে ইন্সটল করলেন,আপনার কম্পিউটারে যেই অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করলেন সেই অপারেটিং সিস্টেমের ফাংশন অনুযায়ী আপনি আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি যদি অনলাইন থেকে কম্পিউটার কিনতে চান তাহলে দারাজ থেকে দেখতে পারেন।

আশা করি আপনাদের কিছুটা হলেও বুঝাতে পেরেছি,যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

আপনি যদি সরকারি চাকরি করতে চান তাহলে এখানে গিয়ে দেখতে পারেন।

Add Comment